সিলেটে কারাভোগের পরও বহাল তবিয়তে প্রধান শিক্ষক রাজা।

নভেম্বর ০৬ ২০২০, ১৭:৪৫

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক :: সিলেট শহরতলীর একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। দেওয়ানি মামলাও রয়েছে একাধিক। তাঁর হুমকিতে আতঙ্কিত থাকেন এলাকার নারী-পুরুষরা। ওই নারী-পুরুষদের অপরাধ তাঁরা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছিলেন। কেউ বা আবার তাঁর বিরুদ্ধে জমিসংক্রান্ত মামলা করে পড়েছেন বেকায়দায়। তাদেরকে প্রতিনিয়ত থাকতে হয় আতঙ্কিত অবস্থায়।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আকবর হোসেন রাজা। সদর উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন মইয়ারচর গ্রামের মৃত কুনু মিয়ার ছেলে তিনি। মইয়ারচর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন যাবৎ।

জানা যায়, মইয়ারচর গ্রামে মইয়ারচর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অবস্থিত। ওই গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে তৈয়ব আলীর মৌরসী ও খরিদা স্বত্ব দখলীয় ৩০ শতক ভূমি ভূয়া কাগজাতের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জায়গা দাবি করে জোরপূর্বক দখল করে নেয় প্রধান শিক্ষক আকবর হোসেন রাজা।

ওই ভূমি উদ্ধারের জন্য তৈয়ব আলী দেওয়ানী আদালতে স্বত্ব মোকদ্দমা নং- ২৩০/০৭ ইং দায়ের করেন। পরবর্তীতে বর্ণিত স্বত্ব মোকদ্দমায় ভ্রমাত্মক ও বেআইনী রায়ের বিরুদ্ধে তৈয়ব আলী জেলা জজ আদালত সিলেটে স্বত্ব আপীল নং- ২৩৯/২০১৬ ইং দায়ের করেন। যা বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আছে। যার সিভিল রিভিশন নং- ১০২৬/২০১৯ ইং। উচ্চ আদালত ওই ভূমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন যা বর্তমানে বলবৎ আছে।

এদিকে ভুক্তভোগী তৈয়ব আলীর ছেলে মাসুম আহমদ প্রধান শিক্ষক আকবর হোসেন রাজার বিরুদ্ধে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর “ভূয়া দলিল সৃজন করে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে মইয়ারচর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুমতি/স্বীকৃতি গ্রহণের অভিযোগে একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনে মাসুম উল্লেখ করেন, মইয়ারচর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন মইয়ারচর মৌজার জে.এল নং- ৮১, খতিয়ান নং- ৩০০, দাগ নং- ৫৮২ এর ০.৩০ একর বর্ণিত ভূমি শিক্ষা বোর্ডসহ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ভ্রমাত্মক তথ্য প্রদানের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। শিক্ষা বোর্ড দিয়ে তাকে উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান করবেন বলেও হুমকি দিচ্ছেন।

মাসুম আহমদ আরও অভিযোগ করেন, তপশীল বর্ণিত ভূমি নিয়ে উচ্চ আদালতে মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকায় উক্ত ভূমি অদ্যাবধি বিদ্যালয়ের স্বত্ব হিসাবে সাব্যস্থ হয়নি। তাছাড়া উক্ত বিদ্যালয়ের দখলে বর্তমানে ৩০ শতক ভূমি রয়েছে। প্রচলিত বিধান অনুযায়ী মাধ্যমিক পর্যায়ে কোনো বিদ্যালয়ের অনুমতি/স্বীকৃতি পেতে হলে অখন্ড ৭৫ শতক ভূমির প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে আকবর হোসেন রাজা ভূয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল সৃজন করে শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। তদন্ত পূর্বক উক্ত বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ওই আবেদনের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিলেটের জেলা প্রশাসক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের উপপরিচালক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদর উপজেলা সিলেটকে।

এদিকে মইয়ারচর গ্রামের আতাউর রহমানের স্ত্রী পিয়ারা বেগম জানান, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকবর হোসেন রাজা ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে তাঁর বসত বাড়িতে হামলা চালায়। রাজা ও তার সন্ত্রাসীরা ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে তাঁর স্বামী আতাউরসহ ৫/৬ জনকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। ওই সময় পিয়ারা বেগমের ঘরে লুটপাটও চালায় রাজারা। ওই ঘটনায় পিয়ারা বেগম বাদি হয়ে জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২০, তারিখ- ২৯.১০.২০১৮। ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি ওই মামলার চার্জশিট আদালতে প্রেরণ করে থানা পুলিশ। এর আগে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর আকবর হোসেন রাজা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে দীর্ঘপ্রায় দুইমাস পর অর্থাৎ ২৭ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতের মাধ্যমে জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে আসে রাজা। তবে জামিনে মুক্তি পেয়েই নানা ধরণের হুমকী দিচ্ছেন তিনি। মামলা প্রত্যাহার না করলে চরম মূল্য দিতে হবে বলেও হুমকি দিয়ে থাকেন রাজা।

পিয়ারা বেগম আরও জানান, কারাভোগ ও চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ার পরও আকবর হোসেন রাজা প্রধান শিক্ষকের পদে কিভাবে বহাল তবিয়তে আছেন। দুই বছরের কাছাকাছি হয় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। কিন্তু আজও শিক্ষক রাজাকে বরখাস্ত করেনি শিক্ষাবোর্ড। উল্টো শিক্ষাবোর্ডের নাম ব্যবহার করে শিক্ষক রাজা এলাকায় নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন। পিয়ারা বেগম আকবর হোসেন রাজাকে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে আইনানুযায়ী বরখাস্ত করতে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এবিষয়ে মইয়ারচর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকবর হোসেন রাজা বলেন- জায়গার মালিক দাবিদাররা আমাদের ওপর হামলা করে। পাল্টা মামলায় তারা আমাকে আসামি করে। তবে আমি কারাভোগ করলেও আদালত আমাকে এখনও দোষী সাব্যস্ত করেননি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আহমদ জানান- ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে।

সূত্র, জাগ্রত সিলেট