পৃথিবীর কথা | সিলেটে শিল্পপতি ফিজা বাবুল বাদি হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের মামলা।

সিলেটে শিল্পপতি ফিজা বাবুল বাদি হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের মামলা।

মার্চ ১১ ২০২১, ০৮:৪৫

Spread the love

অনলাইন ডেক্সঃ- আজহারুল ইসলাম মুমিন। একজন লন্ডন প্রবাসী যুবক। গেলো ক’দিন হল তিনি দেশে বেড়াতে এসেছেন। তার আরেক পরিচয়; তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক, ফিজা অ্যান্ড কোং(প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও একাত্তরের কথা পত্রিকার প্রকাশক নজরুল ইসলাম বাবুলের ২য় ছেলে। করোনাকালীন সময়ে দেশে আসার পর ক’দিন হোটেল লা রোজে হোম কোয়ারেন্টিনের ছিলেন। সদ্য প্রবাস ফেরত এই যুবকসহ দুই জনের নামোল্লেখ, আরো অজ্ঞাত ১২ জনকে আসামি করে ৮ মার্চ সোমবার এসএমপির কোতোয়ালি থানায় ৫ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজহারে বলা হয়েছে- মমিন মাদক সেবন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত! এদিকে-কোতোয়ালি থানা পুলিশও মমিনসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য হন্য হয়ে খুঁজছে নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসা-বাড়িতে। অপরদিকে-প্রবাসী যুবক মুমিনসহ অন্যরাও নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য অসহায় হয়ে অন্যের দুয়ারে-দুয়ারে সাহায্যের জন্য ঘুরছে! মামলাকারীর নাম শুনে কেউই তাকে সাহায্যের জন্য এগোচ্ছে না! প্রশ্ন জাগতে পারে, শিল্পপতির এই ছেলের বিরুদ্ধে কে এই মামলা করেছেন?

নজরুল ইসলাম বাবুল। তিনি নিজেই বাদী হয়ে তার ২য় ছেলে আজহারুল ইসলাম মুমিনসহ দুই জনের নামোল্লেখ, আরো অজ্ঞাত ১২ জনকে আসামি করে এসএমপির কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন! মামলা নং-২১(০৮/০৩/২১)। মামলায় ২য় আসামি করা হয়েছে নগরীর শাহজালাল উপশহর আবাসিক এলাকার মৃত মো. সোলেমান মিয়ার ছেলে মো. সামি (৩৫)কে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকরস্থ’ বিসিক শিল্প নগরীতে ফিজা এন্ড কোম্পানীর একজন পরিচালক আজহারুল ইসলাম মুমিন। তিনি লন্ডন থাকাকালীন সময়ে শহরে তার নামীয় ২৬ শতক জমি একটি প্রাইভেট ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে ৫৫ কোটি টাকা লোন নেন তার পিতা নজরুল ইসলাম বাবুল। বিষয়টি প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে মুমিন জানতে পারে। তাই সে দেশে আসে। হোম কোয়ারেন্টিন থেকে বের হয়ে মুমিন ৭ মার্চ সোমবার রাতে তাদের কোম্পানীতে গিয়ে তার বাবার কাছে জানতে চান, তাকে না জানিয়ে কেনো তার মালিকানা জায়গা ব্যাংকে বন্ধক দিয়ে এত টাকা লোন নিলেন? প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে কেনো তার স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংকের সাথে প্রতারণার করে এতো টাকা নিলেন? এতেই বিবাদের সৃষ্টি! এদিকে-বুধবার বিকেলে এসএমপির কোতোয়ালি থানা পুলিশ মো. সামিকে আটকের জন্য তার বাসায় তল্লাশি চালায়। সামির পরিবার মামলার বিষয়টি জানতে পেরে আতঙ্কে রয়েছেন।

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, আজহারুল ইসলাম মুমিন তার বাবা নজরুল ইসলাম বাবুলকে কল দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালনা করতে চাইলে তাকে প্রতিমাসে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে ০৭ মার্চ সোমবার রাত সাড়ে ৯ টায় মেন্দিবাগস্থ সত্তার ম্যানশনে ফিজা অ্যান্ড কোম্পানীর শোরুম ভাংচুর করে। এসময় ম্যানেজারকে অস্ত্র দেখিয়ে ক্যাশবক্স থেকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে ওই রাতে নগরীর তালতলাস্থ সিলভেলি টাওয়ারে নজরুল ইসলাম বাবুলের বাসায় গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় তার কোমরে থাকা পিস্তল দিয়ে ফাঁকা ৩টি গুলি ছুড়ে।

তবে এসকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে আজহারুল ইসলাম মুমিন সিলেট লাইভকে বলেন, মঙ্গলবার রাতে বাবা আমাকে ফোন করে বলেন তার সাথে কার যেনো ঝামেলা হচ্ছে। আমি তখন গাড়ি নিয়ে দ্রুত চলে যাই বাবার তালতলাস্থ সিলভেলি টাওয়ারের বাসায়। বাসার সামনে গিয়েই দেখলাম রড হাতে কয়েকজন যুবক দাঁড়িয়ে আছে। আমি বাবার কাছে যেতেই বাবা উনার বন্ধুক দিয়ে ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েন। বিষয়টি আমি বুঝতে পেরেই ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি নিয়ে চলে আসি। আজ বুধবার জানতে পারলাম, আমার নামে বাবা ছিনতাই মামলা করেছেন।

বাবা মামলায় উল্লেখ করেছেন, আমি তাকে তিন রাউন্ড গুলি করছি। এই তথ্য এটি একদম মিথ্যা। বরং আমাকে পূর্বপরিকল্পনা করে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাবা গুলি করেন। বাবার তালতলাস্থ সিলভেলি টাওয়ারের বাসা এবং পার্কিংয়ে অন্তত ২০/২৫ সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। ফুটেজ দেখলে সব সত্যতা জানবেন।

বাবা মামলায় আরো উল্লেখ করেছেন, আমি নাকি ফিজা এন্ড কোম্পানির শোরুম থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে আসছি। এই তথ্যটাও মিথ্যা। মেন্দিবাগস্থ শোরুমের কথা উল্লেখ করেছেন, সেই শোরুমে অন্তত ৪০ টির মত সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। বাবা তার গল্পকাহিনী আড়াল করতে এরকম গল্প সাজিয়েছেন। সঠিক তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে এই গুলি কার বন্দুকের।

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এসএমপির কোতোয়ালি থানার ওসি এসএম আবু ফরহাদ।

বিষয়টি জানতে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক, ফিজা অ্যান্ড কোং (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও একাত্তরের কথা পত্রিকার প্রকাশক নজরুল ইসলাম বাবুলকে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

সূত্রঃ সিলেট লাইভ ২৪.কম

সর্বশেষ নিউজ