পৃথিবীর কথা | নগরীর লালদিঘীরপাড় এলাকায় হোটেল সোনালীতে ‘কানা তাজু’র’ প্রকাশ্যেই চলছে রমরমা দেহব্যবসা। ca-pub-3266865189993050

নগরীর লালদিঘীরপাড় এলাকায় হোটেল সোনালীতে ‘কানা তাজু’র’ প্রকাশ্যেই চলছে রমরমা দেহব্যবসা।

Spread the love
Advertisements
Loading...
Advertisements
Loading...

পর্ব (১)

স্টাফ রিপোর্টারঃ ভাইজান কিতা করইন? কুন্তা লাগবো নি? লাগলে কইবা ভালা ভালা কমবয়সী আছইন। ভাইয়া,যাইবেন নাকি বোর্ডিংয়ে? মাত্র ৫০০ টাকা” দুইজন গেলে ৮শ টাকা। কথাগুলো পাশ থেকে হঠাৎ কানে আসলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

নগরীর লালদিঘীর পার এলাকায় কিছুক্ষণ উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরাফেরা করলে অথবা দাঁড়িয়ে থাকলে এরকম প্রস্তাব পেতে পারেন আপনিও। আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে এইসব পতিতাবৃত্তির ব্যবসা এখন ওপেন সিক্রেট।

ব্যক্তিগত কাজ শেষে ফেরার পথে লালদিঘীরপারে প্রতিবেদককে এমনই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। একজন মধ্যবয়সী এক চোখ ওয়ালা লোক নাম কানা তাজু হাতে জলন্ত সিগারেট মুখে পান কাছে এসে প্রতিবেদক এর হাতে একটি টিকিট ধরিয়ে দিয়ে বলল ওপরে চলেজান নতুন কিছু মাল আসছে,স্টুডেন্ট নাকি সেটা জানতে চাইল। সংবাদকর্মী পরিচয় গোপন রেখে লোকটির সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তা চলল এ প্রতিবেদকের।

বর্তমানে লালদীঘিরপাড় এলাকায় হোটেল সোনালী, নগরীতে সবচেয়ে রমরমা দেহ ব্যবসা করে আসছে। তাদের কিছু সদস্য আছে তাদের কাজ মূলত আশপাশের এলাকা থেকে খদ্দের সংগ্রহ করে দেয়া।

এজন্য তারা কাষ্টমারভেদে কমিশন পেয়ে থাকেন। হোটেল সোনালীতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা ও এলাকা থেকে মেয়েদের আনা হয়। মেয়েদের মধ্যে ১৬-২৩-২৪ বছর বয়সী মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

এদের বেশীরভাগই আবার বিভিন্ন কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্রী। তাদের কাষ্টমার মুলত ১৫ থেকে শুরু করে ৫০ বছরের বৃদ্ধও। তবে উঠতি বয়সি যুবক ও কলেজ ছাত্ররাই তাদের প্রধান খরিদ্দার। তারা টার্গেট ও করেন এই বয়সি যুবকদের।

এছাড়া ফোনকলের মাধ্যমেও তারা কাষ্টমার পেয়ে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলোচিত-কানা তাজুর দায়িত্ব তাকা হোটেল সোনালীর এক দালাল জানান অনেক মেয়েই রাস্তাঘাটে ঘুরাফেরা করে বিভিন্ন ইশারা ইংগিতের মাধ্যমে পথচারীদের দৃষ্টি অাকর্ষণ করে সাড়া পেলে তাদের নিয়ে পূর্বনির্ধারিত হোটেলে আসেন।

Advertisements
Loading...
Loading...

টাকার ভাগ-বাটোয়ারা কিভাবে হয়? জানতে চাইলে তিনি জানান,মেয়েরা প্রতিটি কাজে ২৫% পায়,প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা পায় ৩৫%, ১৫% দেওয়া হয় এজেন্টকে এবং বাকি হোটেল কর্তৃপক্ষ কানা তাজুর ভাগে থাকে।

সিলেট নগরীতে পতিতাবিরোধী আইওয়াশ অভিযান মাঝে মধ্যে হলেও সময়ের ব্যবধানে এর সিষ্টেম কিছুটা পরিবর্তন হয়।

কিছুদিন আগে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল গুলোতে অভিযান করে নামেমাত্র কয়েকজন পতিতা ও খদ্দের আটক করলেও অভিযানে মুল হোতা কানা তাজুসহ কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। মুল হোতাদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কানা তাজু চক্র।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে,বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, মেসের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সমানতালে পতিতা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে হোটেল মালিক ও দালালরা। মাঝে মধ্যে আইন শূংখলা বাহিনি অভিযান পরিচালনা করে পতিতাদের আটক করলেও মালিক দালালদের আটক করা সম্ভব হচ্ছেনা। কানা তাজুর ব্যাচেলর হোটেলে দেহব্যবসার পাশাপাশি মদ গাজার আসর হয়ে থাকে প্রতিনিয়ত।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, লালদীঘির পার ব্যাচেলর হোটেল সোনালীর কানা তাজু দীর্ঘদিন থেকে হোটেলে পাপরাজ্যে চালিয়ে জাচ্ছে । এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে কানা তাজু বলে আমার হোটেলে অভিযান দেবে কে? সবাইকে খুশি করেই আমরা নিরাপদে এ ব্যবসা করছি। চুরি ছিনতাইত করছিনা। পবিত্র নগরীতে তাও আবার মসজিদের কাছাকাছি মালিকানাধীন হোটেলে কিভাবে পাপরাজ্য গড়ে উঠেছে তা ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহলকে।

এদিকে,আবাসিক হোটেল গুলোর আশপাশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনতা স্বার্থক অভিযান চালানোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন। তাদের মতে, পতিতাবৃত্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যুব সমাজ ভয়ানক পথে পা বাড়াবে। ফলে ছিনতাই, নেশাগ্রস্থ হয়ে জাতিকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে। এতে মরণ ব্যাধি এইডসসহ নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে গোটা সিলেট।

এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আবু ফরহাদ জানান এব্যাপারে আমার জানা নেই, তবে অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা অভিযান দিয়ে আটক করে জেলে পাটালেও আইন শক্ত না থাকায় জেল থেকে বেরিয়ে এসে আবার কার্যত্রুম শুরু করে। এই নিউজ চলমান..

সর্বশেষ নিউজ