দুর্নীতির বরপুত্র সিলেট পাসপোর্ট অফিসের, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কামরুজ্জামান ভূইয়া।

মার্চ ২১ ২০২১, ২০:১৩

Spread the love

বিশেষ প্রতিবেদনঃ- সিলেটের প্রধান ক্রাইমজোন এখন সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস। দিনের বেলা যেখানে শুধু টাকা উড়ে।

এ অঞ্চলের মানুষের মুখে এখন,একটি কথাই উচ্চারিত হচ্ছে, পাসপোর্ট অফিসটি এখন হরিলুটের কারখানা, টাকা ছাড়া কারো ভাগ্যে পাসপোর্ট মিলে না।

পাশাপাশি এ কথাটি শোনা যায় এডির চেয়ে ইউডিএ বড়, ইউডির চেয়ে পিয়ন বড়। মোট কথা এই পাসপোর্ট অফিসটির রন্ধে-রণেন্ধ দুর্নীতির রয়েছে। এই অফিসটির মেইন গেট থেকে শুরু করে পরিচালক পর্যন্ত তথা ঘুষ বাণিজ্যের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে।

এখানে পাসপোর্ট করতে গিয়ে রীতিমতো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সবাইকে।

অনলাইন আবেদন ফরমে সব ঠিক থাকার পরও নানা ছুতোয় টাকা চেয়ে বসেন অফিসের কর্মকর্তারা। এমনকি একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা হয়ে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের দেখা ও লেখায় ভুল আছে বলে করে যাচ্ছেন বেপরোয়া দুর্নীতি। আবার পুলিশি যাচাই-বাছাইয়ের নাম করেও নেওয়া হয় আলাদা টাকা।
এভাবেই চলছে পাসপোর্ট অফিসটি। নানা জায়গায় অভিযোগ করেও মিলছে না কোনো প্রতিকার।

সবাই যেনো “ম্যানেজড’।
জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ পাসপোর্ট অফিসটির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মোঃ কামরুজ্জামান ভূইয়ার বিরুদ্ধে।

তিনি চ্যানেল ফি’র নামে প্রত্যেকটি ফাইল থেকে ১০০০,থেকে ১২০০ টাকা করে নেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

এ নিয়ে কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করতে গেলে পাল্টা হুমকি-ধামকি দেওয়ার পর করা হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।

মাসের পর মাস পড়ে থাকা পাসপোর্ট আবেদনকারীরা জানতেও পারেন না,কী কারণে তাদের পাসপোর্ট হয়নি। আর এই ধরনের পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে হন লাঞ্ছনার শিকার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,পাসপোর্ট ফরমে সবকিছু ঠিক থাকার পরও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মোঃ কামরুজ্জামান ভূইয়া বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পুনরায় ফরম পূরণ করে জমা দেওয়ার কথা বলেন।

পরে দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা এমন পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে নিজেরা ফরম ঠিক করে দেবেন বলে জানান।

অভিযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে না গেলে আবেদন ফাইল স্বাক্ষর হয় না। ফলে পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা বাধ্য হন চ্যানেল ধরতে।

চরম ভোগান্তির আরেক নাম সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস, পাসপোর্ট করতে আসা মানুষের কাছে ভোগান্তি যেন এখন নিত্যদিনের সঙ্গী।

আবেদনকারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তার ওপর মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট নতুন যন্ত্রণা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন তিনশ’র মতো আবেদন জমা পড়ে।

রোদে পুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে হচ্ছে আবেদনকারীদের। ফরম জমা দেয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি জায়গায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। ডাটা সংগ্রহ আর ছবি তুলতে তাদের দিন শেষ হয়ে যায়।

জরুরি পাসপোর্ট ১১ দিনে এবং সাধারণ পাসপোর্ট ২১ দিনে ইস্যু করার নিয়ম থাকলেও সব যেনো কাগজে কলমে।

দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর দূর-দূরান্ত থেকে পাসপোর্ট নিতে এসে দেখেন পুলিশ রিপোর্ট আসেনি।

অন্যদিকে, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট হওয়ার কারণে সময় ক্ষেপণ হচ্ছে।

পাসপোর্ট প্রত্যাশী এক যুবক পাসপোর্টের খোঁজ করতে গিয়ে শারীরিক লাঞ্ছনাসহ নানা ভয়ভীতির শিকার হয়েছেন অফিসে।

ভুক্তভোগী বলেন, পাসপোর্ট আনতে গিয়ে পাইনি। বরং অপমান অপদস্থ হয়েছি।

শুধু একজন নয় শতশত ,ভুক্তভোগী, অনেকেই পাসপোর্ট পেতে গিয়ে হয়েছেন নানা রকমের হয়রানির শিকার। ছয় মাস আগে পাসপোর্টের আবেদন করে আজও নিজেদের পাসপোর্ট পাননি তারা।পাসপোর্ট অফিসের ১০৮ নাম্বার রুমের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার কামরুজ্জামানের বেপরোয়া ঘুস বানিয্য অতি স্ট পাসপোর্ট আবেদন কারিরা।

পাসপোর্ট অফিসে দালাল কর্মচারি সিন্ডিকেটের কাদে জিম্মি হয়ে হয়রানি ও যুষ-দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। সরকার নির্ধারিত ফিস ছাড়াও প্রতিটি পাসপোর্টের জন্যে অতিরিক্ত টাকা দিয়েও সঠিক সময়ে মেলছে না পাসপোর্ট। এসব ভোগান্তিকে নিয়তি মানছেন সেবা প্রত্যাশীরা। সাধারণ পাসপোর্ট’র ক্ষেত্রে মূল ফি’র অতিরিক্ত টাকা এবং জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে দিগুণ টাকা অতিরিক্ত ফি দিতে হয় গ্রাহকদের।

অভিযোগ রয়েছে কামরুজ্জামানকে ঘুষ না দিলে ইচ্ছাকৃতভাবে পাসপোর্টে বিভিন্ন ধরনের ত্রুুটির সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানী করে আসছেন । পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে দালাল কর্মচারীদের সমন্বয়ে ঘুষ-দুর্নীতির শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন কামরুজ্জামান । চিহ্নিত কিছু দালালও হয়ে গেছে এখন অফিসের কর্মচারী।

এব্যাপারে জানতে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মোঃ কামরুজ্জামান এর মুঠো ফোনে একাধিক কল দিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবেন না, অফিসের বড় বড় কর্তাদের সাথে কতা বলতে বলেন তিনি জাই করেন উনার সিনিয়রদের জানিয়ে করেন কামরুজ্জামান এতই ব্যস্ত সকাল থেকে রাত দসটা পর্যন্ত অফিস করতে হয়। আরো থাকছে টাকার পাহাড় ১০৮ নাম্বার রুম।

সূত্র, সিলেট নিউজ পেপার।