সিলেট-কানাইঘাট গাজী বোরহান উদ্দিন রাস্তার বেহাল দশা : দেখার কেউ নেই।

মার্চ ২৬ ২০২১, ১৫:২৮

Spread the love

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ- সিলেট থেকে বহমান কানাইঘাটের গাজী বোরহান উদ্দিন রাস্তার করুণ আর বেহাল অবস্থা। রাস্তাটি সিলেট-১ আসনের সদর ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১নং বাঘা ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে কানাইঘাট সদর পর্যন্ত। সিলেট নগরীর মেন্দিবাগ পয়েন্ট হয়ে গাজী বোরহান উদ্দিন মাজারের পাশ গেসে কিংবা টিলাগড় পয়েন্ট হয়ে অথবা সুরমা গেইট বাইপাস হয়ে মুরাদপুর পয়েন্টে গিয়ে তিনিটি রাস্তা একত্রে মিলিত হয়ে কানাইঘাট পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার চলে গেছে। রাস্তাটির বর্তমান বেহাল অবস্থা দেখে সাধারণ পথচারী ও স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আসলে বোরহান উদ্দিন রাস্তাটি দেখবালের প্রকৃত মালিককে। রাস্তায় প্রতি ১ মিটার রয়েছে একটি বিশাল গর্ত কিংবা ভাঙ্গন।
উক্ত রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা, পরগণা ও কানাইঘাট উপজেলা সদর থেকে পাশ্ববর্তী দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন,ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন ও রাজাগঞ্জ ইউনিয়নসহ প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা, অফিস আদালতসহ দৈনন্দিন কাজে সিলেট জেলা সদরের সাথে যাতায়াত করে থাকেন। সময়ের বিবর্তে রাস্তাটি ভাংতে-ভাংতে প্রায় বিলিন হওয়ার উপক্রম হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে রাস্তার অনেকাংশ। কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ ও শাহপরান (রহ:) থানার প্রায় ৮০টি গ্রামের মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে গাজী বোরহান উদ্দিন সড়ক।
সিলেট শহরতলীর উত্তর কুশিঘাট থেকে মিরেরচক, মুক্তিরচক, মুরাদপুর ও বাঘা ইউনিয়নের নলুয়া, তুঁড়োকভাগ, মজিদপুর, খালোপার, জালালনগর, রুস্তমপুর, নিজ বাঘা, গৌরাবাড়ী, অধিরের দোকান, পরগনা বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি ভেঙ্গে ভেঙ্গে একাকার হয়ে সকল ধরনের যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর থেকে উক্ত রাস্তাটির এহেন করুণ পরিনতি হলেও কেউ খবর নিতে আসে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সিলেটের পাথর কোয়ারির মতো বিশাল-বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমে থাকে। ফলে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি প্রায় সড়ক দূর্ঘটনা আর জনভোগান্তি। বিশেষ করে বড় ট্রাক্টর, লরি গাড়িগুলো, ব্রিক ফিল্ড এবং রাস্তার পাশে বিভিন্ন প্লটের মাঠি ভরাট কাজে এই রাস্তা ব্যবহার করার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতে আজকের এই ভোগান্তি। উন্নয়ন বিহীন আগামী বর্ষায় এই রাস্তায় জনসাধারণের চলাচল অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। যদিও উক্ত রাস্তার পাশেই সিলেটের জালালাবাদ নতুন সেনানিবাসের অবস্থান রয়েছে। প্রতিদিন সেনাবাহিনীর বিভিন্ন রকম যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও এ নিয়ে কেউ কথা বলতে চান না। স্থানীয়দের অভিযোগ, উক্ত রাস্তাটি যে এলাকায় সেখানে রয়েছেন, সরকারের দুজন উচ্চ পদস্থ ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্য। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সিলেট ৬ আসনের অন্তর্ভুক্ত ১নং বাঘা ইউনিয়নটি। অপরটি সিলেট -১ আসনের সংসদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেনের নির্বাচনী এলাকার কুশিঘাট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত রাস্তাটির এমন বেহাল দশা। ফলে তাদের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রাস্তাটি দেখে মনে হয় অবহেলা আর অযত্নে অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে আছে রাস্তাটি। স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, বিগত সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এই দুই সংসদের কারো স্পর্শ পড়েনি রাস্তাটির উপরে কিংবা আশপাশের এলাকায়। ক্ষোভের সাথে অনেকে বলেন, গোলাপগঞ্জ সিলেটের অবহেলিত কোন অঙ্গরাজ্য হওয়ায় হয়তো কেউ উক্ত রাস্তাটি সংস্কারের উদ্দ্যেগ নিচ্ছেন না। একদিকে রাস্তাটি ভাঙ্গা আর খানা-খদ্দর অপরদিকে এই ভাঙ্গার রাস্তার উপর দিয়ে পাশ্ববর্তী সরকারি শৈলেশ্বর, বিলডোবা, আন্দরপুর মৌজা থেকে কোটি-কোটি টাকার অবৈধ মাটির বিক্রি করছে একটি চক্র। সেই মাটি ভর্তি ট্রলি ট্রাকের জন্য এখন রাস্তাটি দিয়ে মানববাহী যান চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। যার ফলে সামান্য বৃষ্টি হলে কিংবা রোদ্র হলে ধূলো-ময়লা কিংবা কাঁদাময় কোন জলাশয়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠে রাস্তাটি। সুশিল সমাজের অভিযোগ, মাত্র ১৬/১৭ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কারো কোন ভ‚মিকা নেই কোন জনপ্রতিনিধি বা দায়িত্বশীলদের। দায়িত্বশীলতা যেনো দায়িত্বহীনতার কাজে লিপ্ত রয়েছেন। কথায় আছে “কাজি গরু কাগজে আছে-গোয়ালে নেই”। যদিও রাস্তাটি দেখবালের দায়িত্বে থাকা এলজিইডি, সড়ক-জনপথ বিভাগের। দুটি অফিসের আবার লিয়াজোঁ অফিস রয়েছে গোলাপগঞ্জ ও সিলেট সদরে। কিন্ত তারা কালে ভাদ্রে ও উক্ত রাস্তাটির খোঁজ খবর নিতে আসেন না তারা কেউ, এমন ক্ষোভ স্থানীয় পথচারিসহ এলাকাবাসীর। যোগোযোগ তরা হলেও দায়িত্বশীল কেউই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়নে দেশ আধুনিক আর ডিজিটাল হলেও উক্ত রাস্তাটির কোথায়ও কোন উন্নয়নের ছিটেফোঁটা ও লাগেনি। এলাকাবাসী সরকারের প্রভাবশালী এই দুই সংসদের কাছে জোরদাবী জানান, অতিদ্রুত গাজী বোরহান উদ্দিন রাস্তাটি সংস্কার করে জনদূর্ভোগ লাগবের জন্য।

সংবাদ দাতা, (আবদুল হালিম সাগর)