সিলেটসহ সারাদেশে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও ব’ন্ধ নেই কম্পাস একাডেমিক এডমিশন কেয়ার এর কোচিং বাণিজ্য।

এপ্রিল ১০ ২০২১, ১৪:৫৮

Spread the love

বাংলাদেশে করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই বন্ধ সারাদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ স্থানে সবকিছু স্বাভাবিক হতে চললেও কমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু লকডাউন আইন অমান্য করে প্রকাশ্য দিবালোকে কোচিং বাণিজ্য

সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার আইডিয়াল হসপিটালের বিপরীতে কম্পাস একাডেমিক এন্ড এডমিশন কেয়ার কোচিং সেন্টারে চলছে ক্লাশ।

গত ৯ এপ্রিল শনিবার বিকেল ৫ ঘটিকার সময় গোপন সুত্রে খবর পেয়ে সিলেটের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সংবাদকর্মীরা সরেজমিন প্রতিবেদনে গেলে সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। কোচিং এ অধ্যায়নরত শিক্ষক কোন রকমের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়া মাক্স ব্যবহার না করে ক্লাশ নিচ্ছেন। কোচিং সেন্টারের দুটি হলে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাশে ছিলেন। এসময় কোচিং সেন্টারে কোন রকমের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ছিলনা। এরকম পরিস্থিতিতে কোচিং কতৃপক্ষের পক্ষে ম্যানেজার রনি প্রথমে মিডিয়াকর্মীদের কে মেনেজ করতে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলে কোচিং সেন্টারের পরিচালক মহিউদ্দিন কে দিয়ে ফোন আলাপ করালে তিনি সাংবাদিকদের মেনেজ করার চেষ্টা চালান। অবশেষে তাতেও ব্যর্থ হলে সিলেটের কথিত নামধারী সাংবাদিকের নাম করে তাদের আত্নীয় পরিচয় প্রদান করেন।

কিন্তু কোন স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সিলেটের কোচিং সেন্টারগুলোতে পড়ানোর নামে চলছে রমরমা ব্যবসা। কোচিং সেন্টারগুলো চালানোর কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদসহ সচেতন মহল।

সিলেটের স্বাস্থ্য দপ্তর বলছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অধিকতর যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে না মানার কারণে সিলেট জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে প্রতিপালন ও মাস্ক পরিধান নিশ্চিতে সিলেট জেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযান ও সাস্থ্য সচেতনতা মুলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সিলেট নগরী জুড়ে ছেয়ে গেছে কোচিং সেন্টারে। কেউ নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা বলতে না পারলেও নগরীতে এর সংখ্যা ছয় শতাধিকের বেশী বলে জানিয়েছেন অনেকেই।

নগরীর বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টারে ঘুরে দেখা যায়, সেখানে এক সাথে প্রায় ৩৫-৪০ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস করানো হচ্ছে। আর বেশীর ভাগ কোচিংয়ে শিশুদের উপস্থিতি বেশী। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে শিক্ষার্থীদের বসানো হয়েছে গায়ে-গায়ে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীদের মুখে নেই মাস্ক। নেই কোন সেনিটাইজেশনেরও ব্যবস্থা। এক একটি কোচিং সেন্টারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে ক্লাস।

গত ১৭ মার্চ শিশু দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঘরে বসেই পড়াশোনা ও খেলাধুলা করার আহবান জানান। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপু মনি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ মো. জাফর বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এতো দিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কোচিং সেন্টারগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ক্লাস করানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তাই এ বিষয়ে দ্রুত যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে জানান এই শিক্ষাবিদ।

সিলেট বিভাগীয় শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, আমরা শুনেছি নগরীর বেশির ভাগ জায়গায় কোচিং সেন্টার চালানো হচ্ছে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ সরকারি নির্দেশনা পরিপন্থী। আমরা বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টারের পরিচালকদের সতর্ক করেছি। কিন্তু তারা আমাদের অমান্য করে কোচিং চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে অতিসত্বর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন।