জাফলংয়ের বনবিট এলাকায় প্রকাশ্য পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। 

জুন ০১ ২০২১, ১৫:২৫

Spread the love

ক্রাইম রিপোর্টারঃ- সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংর বন বিট এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। অভিযোগ ওঠেছে, স্থানীয় বনবিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম কে ম্যানেজ করে অবৈধ ভাবে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে ।

মঙ্গলবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে উপজেলার জাফলংয়ের বনবিট এলাকার সোনাটিলা কানাইজুরী শান্তিনগর নলজুরী সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বড় বড় পাহাড় কাটার মহোৎসবে মেতেছে পাহাড় খেকোরা। টিলা কাটা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ না থাকায় পরিবেশ ধ্বংস করে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক সময় বনবিট কর্মকর্তার চোখের সামনেই ধ্বংস করা হচ্ছে বড় বড় টিলা। এমনকি এই উপজেলা জুড়ে টিলা কর্তন উৎসব চলছে নির্ভয়ে। দেখার যেনো কেউ নেই! ফলে টিলা কেটে পকেট ভারি করছে কিছু অসাধূ বনকর্মকর্তা ও পাহাড় খেকোরা।

স্থানীয়রা বলছেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্তেও অসাধূ প্রভাবশালীরা একের পর এক টিলা কেটে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের সৌন্দর্যকে কেড়ে নিচ্ছে। জীববৈচিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাহাড় কাটা বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার কথা বলা হলেও মাটি ও পাথর বিক্রির কারবারীদের কাছে এসব শুধুই নীতিবাক্য। বাড়ি ঘর তৈরীর জন্য সরকারি ও বেসরকারি মালিকানাধীন টিলা কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে।

তারা বলছেন, জাফলংয়ে পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে এইসব কাজ করা হচ্ছে টিলার মাটি। এক সময় এই উপজেলার সোনাটিলা কনাইজুরী শান্তিনগর মোহাম্মপুর কালিনগরসহ, বেশ কিছু এলাকায় প্রচুর পাহাড় ও টিলা থাকলেও এখন টিলার বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলছে ধীরে ধীরে।

পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, যে হারে টিলা কাটা হচ্ছে তাতেই অচিরেই গোয়াইনঘাট টিলা শূন্য হয়ে যেতে পাড়ে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত সিলেট জেলার ৬টি উপজেলার পাহাড় টিলা কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরও থেমে নেই টিলা কাটা। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু টিলার মাটি ও পাথর ট্রাকে করে বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। টিলা কাটার মতো লাভ জনক ব্যবসা ছাড়তে রাজি নয় পাহাড় খেকোরা।

জানা যায়, টিলার পাথর ফুট প্রতি ৫০ টাকা মাটি ফুট প্রতি ১০ টাকা করে বিক্রয় করা হয়। ভূমি আবাসনের জন্য প্লাট ভালো দামে বিক্রয় করা যায়। এই ব্যবসার সাথে জড়িতরা অনেকেই এখন কোটিপতি। গোয়াইনঘাটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছোট-বড় প্রচুর পাহাড়। আর এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণেই পর্যটকেরা ভিড় করে থাকেন এই ভূ-স্বর্গে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে গোয়াইনঘাটের নৈসর্গিক সৌন্দর্যও হারিয়ে যেতে বসেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি গোয়াইনঘাট উপজেলা জাফলং বনবিট এলাকায় সোনাটিলা কানাইজুরী শান্তিনগর মোহাম্মদপুর কালিনগর টিলা কাটার দৃশ্য সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। এক সময় টিলাটি তার অস্তিত্ব হারাবে। এভাবেই গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন স্থানের টিলার অস্তিত্ব মুছে দেয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসী বলছেন, জাফলংয়ের বনবিট এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে পাহাড় টিলা কাটার মহোৎসব।প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০টি ট্রাক গাড়িতে করে কর্তন কৃত পাহাড়ের পাথর ও মাটি বিক্রি করছে সিন্ডিকেট চক্রটি। প্রতি ২৫০ ফুট গাড়ি থেকে জাফলংয়ের বনবিট কর্মকর্তার নামে নেয়া হয় ১০০০-১৫০০ টাকা। পরিবেশবিদরা দ্রুত এগিয়ে না এলে এই উপজেলার টিলাগুলো পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। অচিরেই হারিয়ে যাবে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

এ বিষয়ে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুল আহাদ সাংবাদিকদের জানান অপরাধী যেই হোউক না কেনো আইনের উর্ধ্বে কেউ নয় ।

এই বিষয়ে আরো জানতে মুঠো ফোনে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান বলেন, আমি এই উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি তবে কিছু দিন থেকে বন বিভাগের পাহাড় কাটার বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা লেখি দেখতেছি, এই বিষয়ে আমরা অফিসিয়াল ভাবে তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্হা নেবো।

সর্বশেষ নিউজ