পৃথিবীর কথা | সিলেটে নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীকে ২ প্রতিবন্ধী বোনের চিঠি- থানায় অভিযোগ

সিলেটে নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীকে ২ প্রতিবন্ধী বোনের চিঠি- থানায় অভিযোগ

জুন ০৮ ২০২১, ১৫:২৩

Spread the love

মাদকাসক্ত ভাইয়ের শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন প্রতিবন্ধী দুই বোন চামেলী রানী কপালি (৪১) ও লাভলী রানী কপালি (৪০)। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লেখা সেই চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়ার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পরে । চিঠিটি ফেসবুকে শেয়ারের পর কমেন্ট বক্সে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উক্ত বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের নিরাপত্তা দিতে অনুরোধ জানান অনেকেই।

লাভলী রানী কপালি ও চামেলী রানী কপালি সিলেট শহরের কোতয়ালী থানার উত্তর বাগবাড়ি এলাকার মৃত স্কুল শিক্ষক হরিদাস কপালীর মেয়ে। চিঠিতে দুই বোন উল্লেখ করেন— মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার প্রয়াত স্কুলশিক্ষক বাবা বেঁচে থাকতে মা, বড় ভাই ও আমরা শারীরিক প্রতিবন্ধী দুই বোনসহ খুব সুখেই চলছিল আমাদের পরিবার। এরই মধ্যে আমাদের বড় ভাই মনোজ কপালি মাদকাসক্ত হয়ে পরে। প্রতিদিন মাদকের টাকার জন্য পরিবারের উপর মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। এরইমধ্যে পিতা হরিদাস কপালিও মারা যান। বাবার মৃত্যুর কিছুদিন যেতে না যেতেই নেশার টাকার জন্য আমাদের দুই প্রতিবন্ধী বোন ও মায়ের উপর অমানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করে ভাই মনোজ কপালি। এই শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়াসহ বৃদ্ধ মাকে নিয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল বাড়িটি রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করছি।

চিঠির বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে জানতে সরেজমিন সিলেট জেলার কোতোয়ালি থানার উত্তর বাগবাড়ির প্রমুক্ত একতা-৩৩১ নাম্বার বাড়ি। সিলেটে কোতোয়ালী থানায় সি. আর. এামলা নং-১৩৫/২০২০খ্রি।
এ প্রসঙ্গে ছোট বোন লাভলী রানী কপালি বলেন, আমার বাবা জীবিত থাকতে অনেক আনন্দে দিন কাটতো আমাদের। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই আমাদের উপর নেমে আসে অন্ধকার। তিনি বলেন, আমাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ভাগভাটোয়ারা হওয়ার পর আমরা দুই বোন একটি বাড়ি পাই । এই বাড়ির একটি কক্ষে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে কোনোরকমে থাকি আর বাড়ির অন্যান্য কক্ষগুলো ভাড়া দিয়ে যে টাকা পাই তা দিয়ে আমাদের সংসারের খরচ চলে। সচ্ছলভাবে না হলেও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে কোনোরকম আমরা দিনাতিপাত করছি।

বড় বোন লাভলী রানী কপালি বলেন, আমাদের বড় ভাই মনোজ কপালি নেশার টাকা না পেলেই মা এবং আমাদের দুই বোনের উপর নির্যাতন চালায়। তার এই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ফলে আমরা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এ বিষয়ে স্থানীয় মুরুব্বি কমিশনারসহ চেয়ারম্যান সাহেবকেও আমরা একাধিকবার অভিযোগ করেছি। কিন্তু তারাও একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে ফিরে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, মনোজ কপালি নেশা করতে করতে এখন পাগল হয়ে গেছে। এই ভাইয়ের কারণে যেকোনো মুহূর্তে প্রতিবন্ধী দুই বোন এবং বৃদ্ধ মায়ের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করে তারা।
এ বিষয়ে তাদের অসুস্থ মা প্রতিমা রানী কপালি (৬৫) বলেন, আমার দুই মেয়েই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী, তাই প্রতিবেশীরা তাদের ভালোবাসেন। কিন্তু আমার মাদকাসক্ত ছেলেরভয়ে এখন এই কেউ এগিয়ে আসে না ।

এ বিষয়ে জানতে সিলেট জেলার কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে ওই দুই বোনের অভিযোগে আমরা মামলা নিয়েছি এবং সেই মামলায় তাদের ভাই জেল খেটে বেড়িয়েছেন ।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তার ভাইয়ের চার্জশিটও দিয়ে দিয়েছি। তাদের ভাই জেল থেকে আসার পর ওই দুই বোন আবারও থানায় এসেছে এবং তার ভাই তাদের হুমকি দিচ্ছে বলে আমাকে জানিয়েছেন। তাই তাদের পরামর্শ দিয়েছি একটি জিডি এন্ট্রি করে রাখতে। পরে দুই বোন মাদকাসক্ত ভাইয়ের বিরুদ্ধে জিডি করেছেন-০৯/০১-২১ইং, সিলেট কোতোয়ালী থানায় দুই বোনের অভিযোগ কনে।
এসময় দুই বোনের অভিযোগে উল্লখ্য করেন বলেন, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর সেই ভাই আমাদের পরিবারের উপর আরোও মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন বাড়িয়ে দেয়। আমাদের বড় ভাই মনোজ কপালি মিন্টু দিনদিন তিনি আরোও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন কেউ কে তিনি ভয়পান না। এর একমাত্র কারণ হলো তিনি সিলেট জেলা যুবলীগ নেতার দাপটে। এসময় যুবলীগ নেতা মনোজ কপালি মিন্টু সাথে মঠফোনে যাগাযোগ করা হলে তিনি ফন রিসিভ করেনী। সূত্র:সারাবাংলা

সর্বশেষ নিউজ